তিন বছর পর মিলছে ‘হাওয়া’র পূর্বাভাস

গভীর সমুদ্রে চিত্রায়িত মেজবাউর রহমান সুমনের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’ এর পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে। ১ এপ্রিল প্রকাশিত প্রথম পোস্টারে দেখা মিলেছে সিনেমার প্রায় সব কলাকুশলীকে।

দেখা যাচ্ছে চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুশি, সুমন আনোয়ারদের মধ্যমণিতে চিৎ হয়ে আছেন লাল হাফপ্যান্ট পরা অচেতন শরিফুল রাজ! ছবির অন্যতম অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী নেট দুনিয়ায় বেশ সরব রয়েছেন ছবিটির প্রচারণা নিয়ে। বলছেন, ‘এটা আমার প্রাণের ছবি।’

পোস্টার প্রকাশ ও মুক্তি প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘‘কোভিডের কারণে গত কয়েক বছরে আমাদের জীবনে অনেক ছন্দপতন ঘটেছে। অর্থনীতির চাকা থেকে শিল্পের চাকা, সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সেই চাকা নতুন করে আবার সচল হতে শুরু করেছে। এখন শুধু প্রয়োজন দর্শকদের সাবলীল অংশগ্রহণ। অনেক আগেই আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘হাওয়া’র কাজ শেষ হয়েছে। আজ প্রকাশ হলো পোস্টার। এখন শুধু মুক্তির অপেক্ষায় আছি। অচিরেই ছবিটি মুক্তি পাবে।’’

২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বরে ছবিটির শুটিং হয় গভীর সমুদ্রে। ছবিটির গল্প সম্পর্কে পরিচালক তখন বলেছিলেন, ‘আমাদের ছবিটা জেলেদের জীবনের দুঃখ-দুর্দশার ছবি নয়। জেলেদের জীবনের সংগ্রামের গল্প নয়।

আমরা বারবার বলেছি, এটা আধুনিক রূপকথার গল্প। গল্পটি একটা মিথোলজিকে ভিত্তি করে। সমুদ্রের জীবনের গল্পের ভেতর দিয়ে একটা হাইপাররিয়্যালিটির গল্প বলতে চাই,

যার মধ্যে গল্প বলার ক্ষেত্রে রিয়েলিস্টিক অ্যাপ্রোচ আছে। আমরা দেখাতে চাই আধুনিক রূপকথা কিংবা প্রতিশোধের গল্প। এটাই মূল কথা। এখানে মাছ ধরার গল্প মুখ্য নয়। মাছ ধরা চরিত্রের দৈনন্দিন কাজেরই একটি অংশ।’

মেজবাউর রহমান সুমনের কাহিনী এবং সংলাপে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন জাহিন ফারুক আমিন, সুকর্ণ সাহেদ ধীমান ও মেজবাউর রহমান সুমন নিজে।

চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন কামরুল হাসান খসরু, সম্পাদনা সজল অলক, আবহ সংগীত রাশিদ শরীফ শোয়েব এবং গান বানিয়েছেন ইমন চৌধুরী। প্রকাশিত পোস্টারটি ডিজাইন করেছেন সব্যসাচী মিস্ত্রী।

নির্মাণ সংস্থা ফেইসকার্ড প্রোডাকশন এবং প্রযোজনা সংস্থা সান মিউজিক এন্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেডের সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই সেন্সরে জমা পড়তে যাচ্ছে ‘হাওয়া’। কোভিডের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিনেমাহলে মুক্তির দিনক্ষণ অচিরেই জানানো হবে।